ওম তৎ সৎ


মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান। 

+++++++++++++++++++++++++++++++++

বু আব্দুল্লাহ গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার। প্রতি তিন বছর পর যখন অবকাশকালীন ছুটি ভোগের সংবাদসহ অর্থাগম হয় তখন বাড়ির একমাত্র বউ কোথাও একটা বেরিয়ে পড়ার বায়না ধরে কিন্তু তাতে পন্ডিত মশাই এর মন টলেনা, চিত্তবিনোদনের খায়েশটা তার একান্ত মনের মধ্যেই পুষে রাখতে হয় । বিনোদন ভাতা প্রাপ্তির খবরে হেডমাস্টারের বউবেচারা  নানা প্রকার ফন্দিফিকির আটে কিন্ত তা শেষঅবধি  ফলপ্রসূ হয় না।এবার হেডমাস্টারের আঠারো বছর বয়সের মেয়েটির সবশেষে অনুরোধ ও মহান রব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপায় প্রথমবার নিজ জেলার বাইরে বেড়াতে যাওয়ার মওকা পেল সে বা তার । সেই সাইত্রিশ বছর বয়াস্কা স্ত্রী আঠারো বছরের কন্যাসহ আব্দুল্লাহ যখন রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালির উদ্দেশ্যে বের হতে পারলেন তখন এ-ই স্কুলশিক্ষকের বয়স পঞ্চাশের গণ্ডি পেরুতে  অবকাশ পেয়েছে।মাস্টারের বউয়ের চেহারা শান্তি মাশাল্লাহ খুব সুরাত, সময়দেব অশেষ কৃপাবশত   মাস্টারমশাইয়ের বউয়ের উপর খুব বেশি ওজনের হাতুড়ি চালায় নি তাই তার শরীরের গড়ন বলতে গেলে এখনো চারকোণা  আর রংটাও এখনো চড়া।

 জীবনভর ঘরকন্না নিয়ে বাড়ির মধ্যে বন্দী হয়ে থাকলাম জামিন মিললো না এই জাতীয় অনুযোগের উত্তরে মাস্টারমশাই আজীবনই ভারিক্কি চালে বলে এসেছেন

 >বউ বাইরের জগতে বড় একটা দেখার মত বস্তু নেই যা কিনা আছে তা সবই এই ভান্ডে।

> তাই যদি হবে তাহলে সেন্টমার্টিন,লুসাইপাহাড় ,দেবতাখুম ওসব জায়গায় লোকেরা কি আঙ্গুল চুষতে যায় জনাব?বউ বলে

-> সবই মনের ভ্রমমনের বেগোড়ে যায়, অবশেষে কিছু না পেয়ে টোটো করে ঘুরে অতিশয় কায়ক্লেশে শেষমেশ সেখান থেকে  ফিরে আসে। তা ওসব জায়গায় অতসুখ থাকলে লোকে সেখানথেকে পাত্তাড়ি দেয় কেন, জানো নাকি?

এবার বেরোনোর জন্য ঘ্যানঘ্যানানি, বিশেষ আবেদন নিবেদন, যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি প্রদর্শন সমস্ত ইতিহাস হয়ে গেল।আবু আব্দুল্লাহ, স্ত্রী বন্যা আর কন্যা রুনা যখন অগ্রিম বন্দোবস্ত করা সাজেকের  কাঠে নির্মিত  রিসোর্টের তক্তপোশে পা রেখেছে তখন সাজেকের রুইলুই পাড়া গ্রামে অবগুণ্ঠনের আড়ালে নিজেকে ঢেকে আকাশে আবির   রঙের ঢেউ তুলেছে সূর্যদেব।আর দশজন প্রাথমিক শিক্ষকের ন্যায় আবু আব্দুল্লাহ মহোদয়ের ব্যয়কুণ্ঠার বদনাম  রয়ে গেছে। তিনি বললেন এ কথা জানতে অবশিষ্ট নেই যে ভ্রমণ পথের শুকনো রুটি সর্বশ্রেষ্ঠ পাথেয়। তিনি আরো  সংযোগ করলেন, দেশের একমাত্র চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রাণ গোপাল দত্ত ভ্রমণপথে কত কম আহার্য পানীয় গ্রহণ করলে তা স্বাস্থ্যসম্মত হয় তা নিয়ে রীতিমত একটি বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রকাশ করেছেন ভ্রমণেচ্ছু বাঙালির ভগ্নস্বাস্থ্যরক্ষার পণ করে। ভ্রমণকালীন সময়ে বাঙালির জন্য জল মাত্র পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তাদের উদর ও মন উভয়ই সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারে।

মাস্টারমশাই   আরো যুক্তি প্রদান করলেন ভেজাল ভর্তি বাংলায় আত্মরক্ষার্থে ভ্রমণে শুকনো রুটি অথবা খোরমা-খেজুর গ্রহণ করা  চলে অনধিক নয়।

 মাস্টারমশাইয়েরএইসব  তত্তকথা শুনে অষ্টাদশী মেয়েটির মুখ টিপে হাসলো ।মেয়েটির মা যেন কিছু শুনে নাই মর্মে রিসোর্টের সোফা তার উপরের কুশন, খাটে চাদর পেতে দিল । লুসাইপাহাড় থেকে আগত করুন উপজাতীয় গানের সুর ঢুকে পড়ল রিসোর্টে । দূর পাহাড়ের গায়ে বিন্দু বিন্দু আলোক আভা অভ্যাগতদের স্বাগত জানানোর জন্য উন্মুখ হয়ে পড়লো।মাস্টারমশাইয়ের   মর্জি অনুযায়ী  শুকনো চিড়ে ও চিনি সহযোগে তিনজনেরই  রাতের খাবারের কাজ সমাধা হয়ে গেল। ক্ষণকাল পরে তাদের সকল পথকষ্ট নিবৃত্ত করতে চোখ ও মন জুড়ে এলো গভীর নিদ্রা। সাজেক ভ্যালির রাতে চাঁদ উঠল ,ঝিঁঝিঁ পোকা  ডাকল,  নাম না জানা হাজার কীটপতঙ্গজাত অর্কেস্ট্রা ধ্বণি ঘুম দেবদেবীকে সাদর সম্ভাষণ জানালো।

মাস্টারমশাই বড়ই  ভোরের পাখি,  পুবের আকাশে আবির রং ধরার আগে আগে স্ত্রী-কন্যাকে  জাগিয়ে দিয়ে বললেন,  লুসাই পাহাড়ের দিক হতে সুদূর দিগন্তে  যেখানটাতে কর্ণফুলী নদী বেরিয়েছে  সেই দিকে তাকাও ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে কর্ণফুলীর  কর্নের ফুল চোখে পড়তে পারে।

রিসোর্টের বেল্কোনিতে দাঁড়ীয়ে বাইনোকুলারে চোখ রেখে বন্যা অর্থাৎ মাস্টারের বউ ,ধুয়াঁশা ঘেরা আলগা মেঘের ফাঁকে সাজেকের রূপ দেখতে উদ্যত হয়েছে ইত্যাবসারে একটা নরমুর্ত্তি দৃষ্টিসীমার মধ্যে ধাববান হচ্ছে।যে নর-মূর্তিটা রিসোর্টের বেলকনির সামনে এসে দাড়াল,মনে হচ্ছে লোকটা আকসার চেনা।   হ্যাঁ তো,অবশেষে তাকে চেনা গেল। দূর দেশে নিকটাত্মীয়ের সন্ধান পেলে মানুষের মন উদ্বেলিত হবে এটা কোন দুর্বোধ্য তত্ত্ব কথা নয়, সুতরাং নবাগত লোকটির ব্যাপারে বন্যার মনে যদি কিছুউচ্ছ্বাস ও  আনন্দ রেখা দেখা দেয়  তাতে দোষের কিছু নেই।রিসোর্ট এর ভেতর থেকে মাস্টারমশাইকে ডাকা হল সাথে অষ্টাদশী কন্যাও হাজির । সাধারণভাবে মানুষ যেরম শব্দ করে তার চাইতে একটু গলার   আওয়াজ  চড়িয়ে বন্যা বলল দেখো গো এই দূরদেশে আমাদেরকে দেখাদিতে কে এসেছে!!

বাইফোকাল চশমার ফ্রেমের ভেতর থেকে বিস্ফারিত চোখে মাস্টার বললেন কে এসেছেন গো?ভারী ও গুম্ভীর গলারস্বর ধ্বনিত হল।নতুন অভ্যাগতের ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া গেল।সর্বপ্রথম বলতে হয় আগত লোকটি মাস্টার মশায়ের স্ত্রী সম্বন্ধীয় আত্মীয়।দীর্ঘ শরীরের ফর্সা চেহারার উপর বাসানো উপবৃত্তকার ভারী সুদর্শন মুখটি।লোকটি তাঁর গোঁফগুলোকে আচ্ছামত ক্ষুর শাসন করেছেন বা করেন এ আন্দাজ যেকেউ করে বসতে পারেন। অন্যদিকে দাঁড়িগুলোকে এমন বেপরোয়া লাই দিয়েছেন তা যেন কবিগুরুর মহিমাকে হারিয়ে দিবেন।যা নৈর্ব্যক্তিক নয় সেসব নিতান্ত ব্যাক্তিবিশ্বাস নিয়ে ঘাটাঘাটি,মাতামাতির বাতুলতা বাদদিলেও লোকটির গায়ে চাপানো গেরুয়া ব্সন নিয়ে দুকথা না বললে হয়না।ছাঁটা গোঁফ, ছাড়া দাঁড়ি সাথে গেরুয়া বসন ,লোকটির বেশভূষা   দৃষ্টে তাকে কোন দলে ফেলবেন? তানিয়ে লোকের বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন পড়বে এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ ।হুজুর হলে সাদা পোশাক আর বাউল হলে আবির রঙ মানা যায় বটে ,শাসিত গোঁফের সাথে সজ্জিত দাঁড়ি তার সাথে গেরুয়া রঙ এতো কারোর সাথে গেলনা।কারোর মতের সাথে যেতেই হবে এ বিশ্বাস জলেদিয়ে আবার নবাগতের বর্ণনায় মনঃসংযোগ করা যাক।এজগতে মানুষের রূপ ও গুণের বেশিরভাগই অপ্রকাশিত ও অবর্ণিত থেকে যায় যদি কিনা এতদুভয়ের সাথে অর্থবিত্তের সংযোগ রেখা ঠিকঠাক না মিলে।লোকটির নাম রফিক হাওলাদার।

বন্যার পিতৃ বংশের উপাধী ধারণকৃত লোকটির অর্থবিত্তের মোট হিসেব কত তা অজানা ইত্যাকার যে তথ্যটি প্রদান করাহলো তার তথ্যসূত্র স্বয়ং বন্যা। লোকটির বিশাল অংকের বিত্তবিভব নিয়ে সকল হিসেবনিকেশ চুকেগেল যথন সে স্বগর্বে ঘোষণা দিল, তাঁর নিকট চাচাতবোন, তার স্বামী ও সংশ্লিষ্ট ভাগ্নের  সাজেক ভ্রমণের সমুদয় ব্যয়ভার সে নিজ স্কন্ধে তুলেনেওয়ার ইজাজত চায়, এতো বড় উত্তম প্রস্তাব।এর চাইতে উৎকৃষ্ট কিছু হতে পারেনা।

আবু আব্দুল্লাহ আমতা-আমতা করে বলে উঠে এটা আপনি কী বলেন? তাইকি কখনো হবার বলুন।আপনি খোদা প্রেরিত মেহমান, তাকে এ-ই ধরণের খোদা না খাস্ত কাজে কেমনে জড়ায়, তারচে বরং আপনি আমাদের সঙ্গদিয়ে আমাদের সামান্য আতেথেয়তা গ্রহণ করবেন এ-ই আররজি রইলো।

️ দোলাহ মিয়া আপনি অকারণ পেরেশানি নিচ্ছেন। জগতে মানুষের পানীয় ও আহার্য  বা তার রিযিক সৃষ্টির চল্লিশহাজার বছরপূর্বে  অদৃষ্টে লিখিত হয়।আর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার মত নাদান নালায়েক  বান্দাকে দিয়ে আপনাদের মত নিকট আত্মীয়দের সেবা করে নিবেন এত আমার বহুৎ পাওয়া।

স্ত্রী সম্বন্ধীয় আত্মিয়ের বিশেষ অর্থানুকুল্যে পরিবারটি যে যে জীর্ন রিসোর্টের উঠেছিল তারা সেখান থেকে সাজেকের সবচাইতে বিলাসবহুল তাপানুকূল পরিবেশের অন্য আর একটি তে স্থান লাভ করল এবং রফিক হাওলাদার নিজ প্রচেষ্টাতেই   ভ্রমণ পথের প্রয়োজনীয়  লটবহর ও তল্পিতল্পা সহ সাজেক রিসোর্ট নামে সরকারি সেনাদলের নজরদারিতে পরিচালিত নতুন পান্থশালায় আশ্রয় লাভে কৃতার্থ হলো।নতুন পান্থশালা টি হিন্দু ধর্মের স্বর্গ অমরাবতীর সাথে তুলনা করা চলে ।আর ইসলাম ধর্ম মতে ইহকালীন বিষয়বস্তুকে পরকালীন মাকাম এর সাথে তুলনা করা পাপ গণ্য না হলে পান্থশালা্টিকে গরিবের জান্নাতুল ফেরদৌস এর সাথে তুলনা করা যেতে পারত।নতুন পান্থশালায় মধ্যাহ্নভোজের সময় আগত হলো। রফিক হাওলাদার নিজেই খাবারের মেনু পড়ে  অর্থ উদ্ধার শেষে অর্ডার দিয়ে দিলেন।

 

 সকলেই মধ্যাহ্নভোজের প্রতীক্ষা করছেন।সুসজ্জিত বৃত্তাকার টেবিলের চারিদিকে সকলে  বসে পড়েছেন।  বাঁকা সুন্নাতি লাঠির সাথে রফিক হাওলাদারের হাতে ঝুলছে পেল্লাই পাঁচশত  দানার একটি অতি বড় মাপের তসবি,  তিনি অত্যন্ত খুযু ও খুশুর সাথে তা তেলাওয়াত করছেন ।সুডৌল মুখ ভর্তি মেহদি মাখানো দাড়ি।মাথার উপর সুউচ্চ কারুকাজ খচিত টুপি। গেরুয়া বসন এর উপর হাতের কাজ করা উত্তরীয় টি রীতিমতো ঝুলছে।তার শরীর থেকে উদগত মিশক অম্বরের  উদগ্র সুঘ্রান তেড়ে আসছে।   তালবে এলেমদের শরীর থেকে আগত   পান দোখতার খোশবুর সাথে আতরের এই সুমধুর সমন্বিতখুশবুর সাথে রুনা সুপরিচিত। গৃহশিক্ষকের কাছে সে প্রতিদিন সকালে কুরআন শিক্ষা নিত, সেই হুজুরের   শরীর নির্গত খুশবুর সাথে এই সুগন্ধির বড় ধরনের সাদৃশ্য আছে ।ইতোমধ্যেই মধ্যাহ্নভোজের খাদ্য পদগুলো টেবিলে চলে এসেছে তার মধ্যে আছে বাম্বু চিকেন, মাটন বারবিকিউ,বিগলবিচি,কোবাং, সসেজ, চিকন চালের ভাত। গলগ্রাস সহজতর করার জন্য  কোমল পানীয়, সালাদ, মরিচ ও পেঁয়াজ কুচি মাছের ভর্তা সংযোজিত হয়েছে। খাবার পর্বের শেষে ফলার তারপর সকলের মুখে উঠলো সাচি পান। খাবার পরে উপজাতীয় ভাষায় বলা যায় পিদা টিং টিং মানে পেট টন টন। এই খাবার শেষে নিজেদেরকে মুঘলরাজপরিবারের সদস্য হিসেবে সর্বকনিষ্ঠ রুনার মতিভ্রম হতে পারত কিন্তু তা হল না কি কারনে পাঠক পরে উপলব্ধি করতে পারবেন।এই ভোজন রসনা তৃপ্ত করা বাবদ কি পরিমান অর্থ ব্যয় হতে পারে তানিয়ে মাস্টারমশায় জনাব আবু আব্দুল্লাহর মনে উদ্বেগের যে ঝড় চলছিল তাহা কহতব্য নয়।অতি সংগোপনে মাস্টারমশাই ওয়েটার মারফত জানতে পারলেন যে সদ্য ভুক্ত মধ্যাহ্নভোজ সমাপ্ত হলো তা বাবদ মাত্র দশহাজার গুনতে হবে। তাপানুকুল রিসোর্টে অবস্থান আর ভুরিভোজ বাবদ রফিক হাওলাদার দেদারছে  যে অর্থ গুনছেন  তাতে তাকে মর্তের কোন সাধারন মানুষ মনে হচ্ছে না।তার প্রতিটি বাক্য মনে হচ্ছে মুণি-ঋষি বাক্য।খুব ছোটবেলা থেকেই আবু আব্দুল্লাহ পৃথিবীতে একজন প্রকৃষ্ট গোছের মানুষের খোঁজার গোপন অনুসন্ধিৎসা নিয়ে চলতেন।  তাবৎ দুনিয়ার হাট ভর্তি মানুষের মাঝে প্রকৃত মানুষ বা মনের মানুষ খুঁজে পাওয়া নাকি অতিশয় দুষ্কর্ম।লালন সাইজি মনের মানুষ খুঁজে পেলেন না। কবিগুরু ঠাকুর ইউরোপ আমেরিকা রাশিয়া  ঘুটে মনের মানুষ না পেয়ে রাগে-ঝালে মনের মাঝে স্বপ্নের মহাপুরুষ আঁকার জন্য খাতা-কলম নিয়ে বসে পড়লেন।   বাংলার গায়ককুল সম্রাট ভূপেন হাজারিকা চিত্রপটে চিন্তাশীল সেই লোকটি আঁকার জন্য কোন রং পেলেন না। কিন্তু আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকটি রফিক হাওলাদার কে সেরকম একজন মনের মানুষ ভেবে নিতেপারলেন।কে বলেছে মানুষের মত মানুষ নেই? সময়-সুযোগ করে পথে বেরুলেই মানুষ পাওয়া যায়, এইতো মাস্টারমশাইয়েস্ত্রী সম্বন্ধীয়  আত্মীয় রফিক হাওলাদার যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আসলে খুঁজলেই রত্ন  পাথর মেলে  , দরকার শুধু ইচ্ছে নামক হরিণটির।

যেহেতু স্ত্রী বংশীয় রফিক হাওলাদারকে  নিঃস্বার্থ উদারতম একেবারে হাজী মুহাম্মদ মহসিনমার্কা মানুষের মধ্যে আবিষ্কার করতে পেরে মাস্টার সাহেবের স্ত্রী ও তদীয় বংশধর সম্পর্কে  সুধারণা বেড়ে গেল। ইতোঃপূর্বে শ্বশুরালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়া-কলাপ  দৃষ্টে তাদের সম্পর্কে মিশ্র ধারণা জন্মেছিল বটে কিন্তু হঠাৎ  ধুমকেতুর মতো আবির্ভূত রফিক আহমেদ এর কল্যাণে তাদের সম্পর্কে বহুৎ পুরাতন  বিশ্বাস দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙ্গেআবার সুগঠিত হয় সোনার মতো জ্বলে উঠলো। এক যজ্ঞের টাকা নিমিষে উড়িয়ে দিচ্ছেন বেহিসেবে, সেই লোকটার প্রশংসা জনিত অতিরঞ্জন বউ বন্যা , কণ্যা রুনা কেউই বড় একটা আমলে নিলোনা। পৃথিবীর মানুষ বড়ই নিমক হারাম, যে পাতে খায় তা ফুটো করতে দেরী করেনা যা আবার প্রমাণীত হোল। কৃতজ্ঞ কুকুর অকৃতজ্ঞ মানুষ অপেক্ষা শ্রেয়_শেখ সাদীর লেখাটি মাস্টারের মনে কিছুক্ষণের জন্যে স্মরিত হলো। সাজেকের  কংলাক পাহড়ের চুড়ায় চড়ে সূর্যোদয় দেখতে গিয়ে মিজোরাম সীমান্তের  সবুজ  পাহাড়ের ভেসে  আসাচিত্র, হেলিপ্যাডে,টাইগার টিলা আর্মি পোস্ট ও মাসালং বাজার হাজাছড়া ঝর্ণা , দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহারের সাথে রাতের আকাশের ছায়াপথের আধিভৌতিক এসবকিছু আয়েশ করে দেখতে দেখতে কেটে গেল আরো দিন পাঁচেক।

হেডমাস্টার আবু আব্দুল্লাহর সস্ত্রীক সাজেক ভ্রমণের বৃত্তান্ত এখানেই শেষ ।তারা যখন   চাঁদের গাড়িতে চেপে সপরিবারে ঘরমুখো হচ্ছে তখন মাস্টার সাহেবের   চরম স্নেহের কন্যা জানালো ,বাবা ,সাজেকে এই সাতদিন আমরা যে রাজকীয় ভাবে চললাম,  তুমি জানলে তোমার শ্বশুরবাড়ির আত্মিয়ের  ঔদার্য ও সৌজন্যতায়এই ঘটনা ঘটেছে।  কিন্তু সে কথা সত্যি নয়। মা মামার বাড়ি থেকে ওই টুপিওয়ালা লোকটিকে  ডেকে এনেছে এবং এই সাতদিন তোমার ডেবিট কার্ড ও তার পিন নাম্বার  মা-ই তাঁকে সরবরাহ করেছে।  এই সাতদিনে এক লক্ষ আশি হাজার টাকা তোমার ডেবিট কার্ড থেকে খসে গেছে। ওই লোকটা যখন এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতো এবং তোমার ফোনে  মেসেজ আসতো তা সঙ্গে সঙ্গেই আমি আর মা মিলে ডিলিট করে দিতাম।

তখন বাবা নিরব ।তিনি  শুধু দীর্ঘ একটা শ্বাস পৃথিবীর বাতাসের ছেড়ে দিলেন এবং একটি মাত্র বাক্য পৃথিবীবাসীর জন্য প্রচার করলেন। সেই ঋষি বাক্যটা  হল ,এই পৃথিবীতে সাধু বলে কোন মানুষ নেই ,সবই দেখছি শয়তান। ওম তৎ সৎ, অর্থাৎ নিজে ভাল হও।সাজেকের আকাশে সূর্য তখন লম্বভাবে কিরণ দিচ্ছে খরতাপে চাঁদের হাট নামক ভাঙা গাড়িতে ঠাসাঠাসি করে বসা লোকেদের গায়ের ঘামের   বিকট   দুর্গন্ধে গা গুলিয়ে উঠছে।

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

" তোমাদের চরণ চুমি"