অধ্যাস

 

    জিকু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ।দর্শন যখন বিষয় তখন সে অধিক পড়াশোনায় বিশ্বাসী ছিল না। পাঠের চাইতে দর্শনই ঢের ভাল, তাই সে দেখেই পছন্দ করে। তারএকটি বিশেষ গুণ বা ব্রত ছিল তা হল পুরনো নোট সরবরাহ করে ছাত্রী সেবা করা। এই কাজে যদি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার থাকতো এখানে সে প্রথম স্থান লাভ করত এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বইগুলো বেশিরভাগই ইংরেজিতে লেখা,গর্ভবতী বইগুলোর খুঁটে খুঁটে তত্ত্ব খালাস করা চাট্টিখানি ধৈর্যের কথা না ।বিভিন্ন ধরনের নোট বিলিবণ্টন দরুন মহিলাঙ্গন জিকুর সুনাম সুখ্যাতি গড়ে উঠেছিল।

সকাল সকাল ফুলকো পারাটার সাথে ডিম ভাজি যোগে নাস্তার কাজ  সেরে কোনরকম পায়ে জুতা গলিয়ে সে বেরিয়ে পড়ে ক্যাম্পাসে। নোটের পাজা বগলদাবা করে কখনো সে বসে থাকে প্যারিস রোড এর কোন শিরিষ গাছের তলে অথবা লাইব্রেরীর কোনায়।দিনের-পর-দিন ছাত্রী সেবার এই জনকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার কোন এক ফাঁকে নাজমা নামক অতিশয় সুশ্রী এক ছাত্রীর সাথে পরিচয় ঘটে গেল তার।খাটো গড়নের এই মেয়েটি তার চোখে পড়ল মনে ধরল। উন্নত ধরনের যত নোট আছে তা সরবরাহ করার জন্য জিকু মরিয়া হয়ে পড়লো।


     একজন উজ্জ্বল  ছাত্রের লিখিত নোট থেকে নির্ভেজাল ভাবে লোপাট করে নতুন আরেকটি রচিত হয়,  কোন কিছু দেখে দেখে লিখলে তাকে অনুলিপি বলে ,এই নোটগুলোকে অনুলিপি বলা যায়না,তাতে বাংলা ভাষার অধ্যাপকেরা নারাজ হতে পারে বরং এই জিনিসটাকে ছায়ালিপি হিসেবে নামকরণ করা যেতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছি 1953 সালে ,অবিশ্বাস্য হলেও কোন কোন নোট প্রথম ব্যাচের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখা, এসব সুপ্রাচীন নোটগুলোর আকার অবয়ব ঠিক আছে মাঝখানে পরিবর্তিত হয়েছে কিছু বানান ও তত্ত্বকথা যেমন ধরুনপঞ্চাশের দশকের কোন এক উজ্জ্বল ছাত্র লিখেছিলেন বৈষ্ণব পদাবলীর রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস, কালের ধারায় কোন একদিন বড়ু  চন্ডীদাসের ডয় বিন্দু র এর হৃসুকার গেল মুছে তা রূপান্তরিত হল বড় চন্ডীদাসে, বড় শব্দটির চাইতে বৃদ্ধ শব্দটি আরো শ্রুতি মধুর তায় কৃপা বস তো পরবর্তীতে কোন ছাত্রের করুণায় হয়তো সংযোজিত হল বৃদ্ধ চন্ডীদাস  এভাবেই বছরের পর বছর ধরে নোটগুলো বিবর্তন সাধিত হয়ে চলছে।এক বৃহস্পতিবার বিকেল যথারীতি নোট বিতরণ করতে গিয়ে প্যারিস রোডের শিরিষ গাছের তলায় দাঁড়িয়ে আচমকা নাজমা বলে,

->জিকু ভাই আপনার সাথে আমার একটু কথা ছিল, বলতে পারেন এক্কেবারে স্পেশাল কথা।

বহুকাঙ্খিত শ্রুতিমিষ্ট প্রস্তাবটি শুনে জিকুর বুকের মধ্যে গল গল করে রক্ত প্রবাহিত হলো তারই সুবাদে মুখটা হয়ে উঠল রক্তিম, রাঙ্গামাটি সহজ করে জিকু বলল

=>বলে ফেলো ।

->না জিকু ভাই আজকে এখানে বলা যাবে না বিশেষ কথা বিশেষ কোন জায়গায় যে বলতে হয় নাজমা বলে।

->তো তোমার স্পেশাল জায়গাটি কোথায় কবে কখন খোলসা করে বল।

->আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধে বিকেল তিনটেতে। নাজমা বালে।

-> আলোচ্য বিষয় এর হিন বা ক্লু দেওয়া যায়  কিনা

তাহলে সেই



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

" তোমাদের চরণ চুমি"